সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলাম: নিজেকে ফিরে পাওয়ার এক লড়াই | লেখক: সৈকত প্রসাদ রায়

ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলাম  ✍️ সৈকত প্রসাদ রায় রিমঝিম বৃষ্টির দুপুর। জানলার পাশে বসে চায়ের কাপ হাতে আনমনা হয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে অরিত্রা। একটানা বৃষ্টি যেন ওর ভেতরের সিক্ত হাহাকারকেই প্রতিধ্বনি করছে। কতদিন হলো এইভাবে বসে থাকে সে, ঠিক কতদিন জানে না। সময় এখানে থেমে গেছে—একটা বিশেষ মুহূর্তে, এক বিশেষ মানুষের কাছে। সেই মানুষটার নাম ছিল ঈশান। বিশ্বাস, ভালোবাসা, স্বপ্ন—সবকিছু এক এক করে সাজিয়েছিল ওদের দুজনের গল্পে। আর সেই গল্পেই কোথাও একটা মোচড় ছিল, যেটা অরিত্রা প্রথমে বুঝতে পারেনি। ঈশান ছিল রোমান্টিক, যত্নশীল, হাসিখুশি—তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত আত্মকেন্দ্রিকতা। অরিত্রা ধীরে ধীরে টের পেতে থাকে—এই সম্পর্কটা ওর একার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঈশানের ভালোবাসা ছিল শর্তসাপেক্ষ, সুবিধাভোগী। ওর চোখে অরিত্রা ছিল শুধু একজন 'ভালো শ্রোতা', একজন 'সহজ ভরসাস্থল'—কিন্তু একজন জীবনসঙ্গী নয়। প্রথম দুঃখ এসেছিল যেদিন ঈশান ওর জন্মদিনে এসে বলেছিল, "আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে, দোস্তদের সঙ্গে পার্টি আছে।" অরিত্রা কেকের পাশে বসে শুধু হাসি দিয়েছিল, গলার ভিতরে তখন আটকে ছিল কিছু শব্দ—ভ...

চাঁদের আলোয় ফিরে আসা: এক অলৌকিক প্রেমের গল্প | লেখক: সৈকত প্রসাদ রায়

                                                             চাঁদের আলোয় ফিরে আসা সৈকত প্রসাদ রায় রাত তখন ন’টা পেরিয়েছে। আকাশে একফালি চাঁদ উঠেছে, নদীর জলে তার আলো টলমল করছে। বৃষ্টির পরের সন্ধ্যা — বাতাসে মাটির গন্ধ, চারদিকে অদ্ভুত শান্তি। দূরে বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যায়। এমন রাতে একা বসে নদীর ধারে থাকা মানে, নিজের ভেতরের কোলাহলটাকে একটু শোনা। রূপা সেই কাজটাই করছিল। হাতে একটা পুরনো চিঠি, চোখে অচেনা আলো। চিঠিটা সে পড়েছে কতবার, গুনে শেষ করতে পারে না। তবু আজ আবার খুলে পড়ছে। কাগজটা হলুদ হয়ে গেছে, কালির দাগ হালকা, কিন্তু অক্ষরগুলো এখনো বেঁচে আছে— “আমি ফিরব একদিন, চাঁদের আলোয়, ঠিক তোমার জানলার সামনে দাঁড়িয়ে।” রূপার বুক কেঁপে ওঠে। এই কথাগুলো লিখেছিল সৌম্য। দশ বছর আগে। তখন রূপা কলেজে পড়ে, সৌম্য তার ব্যাচমেট। ছেলেটা চুপচাপ, কিন্তু চোখে ছিল স্বপ্নের ঝিলিক। সাহিত্যপাগল সৌম্য গল্প লিখত, কবিতা লিখত, আর ...

তুমি থেকেও ছিলে না: এক অপূর্ণ ভালোবাসার উপাখ্যান | লেখক: সৈকত প্রসাদ রায়

  তুমি থেকেও ছিলে না লেখক: সৈকত প্রসাদ রায় সন্ধ্যা নামছে। জানালার ওপাশে অলস বাতাসে ওড়ে সাদা পর্দা। ভেতরে নিঃশব্দ এক কামরা ঘরে বসে অরণী একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে পুরনো একটা চিঠির দিকে। হাতের আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে পড়ছে পুরনো অক্ষরগুলো—যেন প্রতিটা শব্দে জমে আছে কোনো অতৃপ্ত অভিমান। “আমি আছি” — চিঠিতে লেখা ছিল। তবু অরণীর মনে হয়, অনির্বাণ কোনও দিনও আসলে ছিল না। তাকে ভালোবেসেছিল বটে, ছুঁয়েও দেখেছিল, প্রতিশ্রুতির নরম উষ্ণতায় ভরিয়েছিল শীতল রাতগুলো। তবু সে ছিল না। একসাথে ছিল দু’জনে সাতটা বছর। অথচ অরণীর মনে পড়ে না এমন একটা দিন, যেদিন অনির্বাণ পুরোপুরি তার কাছে ছিল। ছিল না অন্তরের গভীরতায়, ছিল না সংলাপে, ছিল না প্রয়োজনের টানাপোড়েনে। একটা সময়, প্রতিটা সকালে ঘুম ভাঙত অনির্বাণের মেসেজে — “ঘুম থেকে উঠেছো?” তারপর ধীরে ধীরে সেসব ঘনত্ব হারাল। “কাজ আছে”, “মিটিং আছে”, “আজ দেখা না হলে হয় না?”, “তোকে নিয়ে একদিন সব ঠিক করব”—এসব অজুহাতে জমা হতে থাকল দূরত্ব। একটা মানুষ পাশে থেকেও কীভাবে এতটা না-থাকার মতো করে ফুরিয়ে যায় — অরণী বুঝেছিল সেই সময়ে। ছুটির দিনগুলোতে, সে চুপচাপ অনির্বাণের জন্য অপেক্ষা...

বাংলা মা — সৈকত প্রসাদ রায়

  বাংলার চিরচেনা রূপ আর প্রকৃতির প্রতি আমাদের মমত্ববোধ নিয়ে আমার লেখা এই কবিতাটি 'উত্থান' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতির মাঝে যে শান্তি লুকিয়ে আছে, তা-ই আমি শব্দের ফ্রেমে বাঁধার চেষ্টা করেছি। বাংলা মা — সৈকত প্রসাদ রায় (উত্থান পত্রিকায় প্রকাশিত) সবুজের আঁচলে ঢাকা এই বাংলার ভূমি,  নদীর কলতান আর পাখির মিষ্টি গানে ভরে এ জীবন।  মাঠ ভরা সোনালী ধানে কৃষকের হাসি,  প্রকৃতির রূপে যেন শান্তির আহ্বান। পাহাড়ের চূড়া মেঘে ঢাকা দিগন্ত,  বৃষ্টির ফোঁটায় ছড়ায় ভেজা মাটির সুগন্ধ।  ফুলের সৌরভে ভোমরা ব্যাকুল দিবা-রাত,  প্রকৃতির দান এই জীবনে নামুক আনন্দ। দূরে ঐ নীল আকাশে সাদা মেঘ ভাসে,  যেন তুলির ছোঁয়ায় আঁকা ছবিখানি।  প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজে পাই অবশেষে,  জুড়িয়ে যায় প্রাণ এই রূপ দেখে মুগ্ধ আমি। প্রকৃতি মাগো তুমি চিরন্তন সত্য,  তোমাকে আগলে রাখাই হোক সকল সন্তানের দায়িত্ব।

ছোট মা — সৈকত প্রসাদ রায়

  ছোট মা  সৈকত প্রসাদ রায় বিকেলের দিকে ব্যস্ত শহরের ফুটপাতটা ছিল ভীষণ ভিড়ভাট্টায় ভরা। গাড়ির হর্ন, রিকশাওয়ালাদের চিৎকার, দোকানের ভিড়—সমস্ত মিলিয়ে চারপাশ কানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো। সেই ভিড়ের ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিল এক গরিব মা; পুরনো ছেঁড়া শাড়ি পরে, কোলে তার তিন বছরের ছোট ছেলে। মায়ের চোখে জল, মুখে আতঙ্ক। সে এক হাতে ছেলেটিকে আঁকড়ে ধরেছে, আর অন্য হাতে ডাক্তারখানার চেম্বারের দরজার ফ্রেম চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ডাক্তার বেরিয়ে এসে শান্তভাবে বললেন, — “ওর রোগটি মারাত্মক কিছু নয়, কিন্তু অপারেশনটা করাতে হবে। খরচ কমপক্ষে চল্লিশ হাজার টাকা।” মা যেন কেঁপে উঠল। তার গলায় আটকে থাকা কান্না আর লজ্জা একসাথে ফেটে বেরোল, — “ডাক্তারবাবু, এত টাকা আমার কাছে কোথায় পাব? দিন আনি দিন খাই। আমার ছেলেটাকে বাঁচান।” ডাক্তার মুখ ঘুরিয়ে ভেতরে চলে গেলেন। মা ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। ছোট ছেলে অচেতন প্রায়, তবু মাঝে মাঝে খকখক করে কাঁপছে। সেই কান্নার আর্তনাদ আছড়ে পড়ল রাস্তার হইচইয়ের মধ্যে। ঠিক তখনই রাস্তার ওপার দিয়ে যাচ্ছিল একদল বৃহন্নলা। রঙিন শাড়ি, হাতে তালি, ঠোঁটে লিপস্টিক—তাদের দেখে মানুষ অনেক সময় চোখ নামিয়ে নেয়, ভয় পায় বা ...

শিক্ষক দিবসের এই বিশেষ দিনে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি

  শিক্ষক কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দান করেন না, তিনি আমাদের জীবন গড়ার কারিগর। অশিক্ষার অন্ধকার দূর করে যিনি আমাদের আলোর পথে নিয়ে যান, তিনিই প্রকৃত গুরু। আজ শিক্ষক দিবসের এই পুণ্য লগ্নে, আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার লেখা এই ছোট্ট কবিতাটি উৎসর্গ করলাম— 'প্রেরণার পথপ্রদর্শক' প্রেরণার পথপ্রদর্শক — সৈকত প্রসাদ রায় অশিক্ষার অন্ধকারে এগিয়ে আসেন জ্ঞানের প্রদীপ হাতে যিনি,  জীবনের পথের দিশা বলে আজও সেই শিক্ষককেই চিনি। তাঁর শেখানো অক্ষরগুলোয় ভবিষ্যতের প্রদীপ জ্বলে,  শিক্ষকের দেওয়া মানুষ হবার মন্ত্র নিয়ে ছাত্ররা এগিয়ে চলে। শিক্ষকের প্রেরণাই এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখায়,  সমাজের পাঁকে ডুবতে গিয়েও ভেসে ওঠার সাহস জোগায়। আজকের এই পৃথিবী হয়তো অনেক বদলে গেছে,  তবু শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষা কেউ ফেলতে পারেনি মুছে। হৃদয়ের আকাশে থাকুন চির অম্লান হয়ে সেই শিক্ষকের নাম,  শিক্ষক দিবসের পুণ্য দিনে আপনাকে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম।

যে প্রেম বলা হয় না (একটি প্রেমের গল্প) | কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়

  "তুই আমাকে ভালোবাসিস, এটা জেনেও আমি খুশি। কিন্তু ভালোবাসার প্রথম শর্ত হলো—ঠিক সময়ে তাকে চিনতে পারা। তুই চিনতে দেরি করেছিস।" বন্ধুত্ব যখন প্রেমের চেয়েও গভীর হয়ে ওঠে, তখন তাকে চিনে নিতে ভুল করলে জীবন বদলে যায় চিরতরে। সৈকত আর নবনীতার সেই অপ্রাপ্তির গল্প: "যে প্রেম বলা হয় না" । পড়ুন আমার ব্লগে: কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়। #সৈকত_প্রসাদ_রায় #যে_প্রেম_বলা_হয়_না #বাংলা_গল্প #না_বলা_কথা #ছোটগল্প #BengaliWriter লেখক: সৈকত প্রসাদ রায় প্রথম পরিচয় কলকাতার এক হালকা শীতের সকালে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের এক ক্যাফেতে একে অপরের সামনে প্রথম বসেছিল সৈকত আর নবনীতা। দুইজনের পরিচয় ফেসবুকের এক বইপ্রেমীদের গ্রুপে—তর্ক হচ্ছিল 'গোরা' নাকি 'শেষের কবিতা' ভালো, সেই তর্কের সূত্র ধরেই এক বিকেলে অফলাইনে দেখা। সৈকত—একজন তিরিশোর্ধ্ব সফল ব্যবসায়ী, আইটি ফার্মের মালিক, গড়পড়তা বাঙালি ছেলেদের চেয়ে একটু বেশিই গোছানো, সময়নিষ্ঠ, নিজস্ব এক নীতি অনুযায়ী জীবন কাটায়। নবনীতা—স্টেট ব্যাংকে কর্মরত, শান্ত, স্থিরচরিত্র, তবু মাঝে মাঝে সে যেন এক বুক গভীর সমুদ্র, যেখানে ঢেউ উঠলেও সেটা বোঝা যায় না ...

তুই আছিস বলে (একটি ছোটগল্প) | কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়

   "মাঝে মাঝে কাঁদতেও ভয় লাগে। যদি কেউ দেখে ফেলে, যদি কেউ দুর্বল বলে..." আমাদের সবার জীবনেই এমন একজন মানুষের প্রয়োজন হয়, যার কাঁধে মাথা রাখলে পৃথিবীর সব লড়াই সহজ মনে হয়। ঈশান আর মিথিলার সেই আশ্রয়ের গল্প: "তুই আছিস বলে" । পড়ুন আমার ব্লগে: কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়। #সৈকত_প্রসাদ_রায় #তুই_আছিস_বলে #বাংলা_গল্প #ভালোবাসা #আশ্রয় #BengaliLiterature লেখক: সৈকত প্রসাদ রায় বিকেলটা ভারী হয়ে আছে। আকাশে মেঘ নেই, তবু মনখারাপের হাওয়া বইছে। লেকের ধারে বসে আছে তারা—ঈশান আর মিথিলা। মিথিলা আজ চুপচাপ। সাধারণত ওর মুখে ঝরনার মতো কথা, আর ঈশান শুধু শোনে। কিন্তু আজ মিথিলা শুধু তাকিয়ে আছে জলের ওপর ভেসে থাকা সূর্যরশ্মির প্রতিফলনে। ঈশান বুঝতে পারছে, মনের ভেতর অনেক কিছু জমে আছে, কিন্তু ও চেপে রাখছে। ঈশান ধীরে ধীরে বলে, “বলবি না কিছু?” মিথিলা একটু সময় নেয়। তারপর হঠাৎ ওর মাথাটা ঈশানের কাঁধে রেখে ফিসফিস করে বলে, “তুই থাকিস না পাশে, সব কিছু একা একা নিতে ভালো লাগে না রে আর...” ঈশান স্থির হয়ে যায়। এই এক অভ্যেস মিথিলার—যখন কষ্ট পায়, তখন মাথা রেখে দেয় ওর কাঁধে। যেন সেই কাঁধটাই ওর আশ্রয়। “আমার ব...

যেখানে শান্তি থাকে (জীবনমুখী ছোটগল্প) | কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়

   "সফলতা একধরনের বাহ্যিক প্রাপ্তি, কিন্তু শান্তি হল আত্মার গভীর উপলব্ধি।" বিশাল অট্টালিকা, দামী গাড়ি আর বিদেশের সফর—অর্জুন দত্তর জীবনে কমতি ছিল না কিছুর। তবুও ছাপ্পান্নো বছর বয়সে এসে কেন তাঁর মনে হলো, সাফল্যের ভিড়ে আসল শান্তিটা হারিয়ে গেছে? সাফল্যের চাকচিক্য ছেড়ে শেকড়ের টানে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য গল্প: "যেখানে শান্তি থাকে" । আমার ব্লগে গল্পটি প্রকাশিত হয়েছে। পড়ার আমন্ত্রণ রইল। কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়। #যেখানে_শান্তি_থাকে #সৈকত_প্রসাদ_রায় #বাংলা_গল্প #জীবনবোধ #শান্তি #BengaliLiterature ✍️ সৈকত প্রসাদ রায় জীবনের সবচেয়ে উঁচু দালানটা শেষমেশ দাঁড়িয়ে থাকলেও, তার ছায়ায় পড়ে থাকা নীরবতা অনেক সময়ই কেউ দেখে না। অর্জুন দত্তর বয়স এখন ছাপ্পান্নো। শহরের সবচেয়ে নামী কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক, টাকার হিসেব রাখতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট্যান্টরও কপালে ঘাম জমে যায়। বাড়ি, গাড়ি, বিদেশ সফর, পুরস্কার—সবই আছে। না থাকার কিছু নেই। অথচ কিছু একটা যেন নেই—এই কথাটাই বারবার মাথায় ঘোরে। আজ রবিবার। অর্জুন বসে আছেন নিজের বিশাল বাগানে। কফির কাপ হাতে, চোখ কিন্তু দূরের আকাশে। হঠাৎই মনে পড়ে গেল ২২...

তুমি শুনতে পাওনি — সৈকত প্রসাদ রায়

   "আমার নীরবতাও অনেক কিছু বলতে চেয়েছিল, তুমি শুনতে পাওনি, আমি বলতে পারিনি।" মাঝে মাঝে দূরত্ব তৈরি হয় শব্দের অভাবে নয়, বরং শব্দের ভার সইতে না পেরে। রিমি আর অর্ণবের তিন বছরের সেই দীর্ঘ নীরবতা কি একখানা চিরকুটে মিটে যায়? নাকি কিছু নীরবতা চিরকালই সত্যি হয়ে থেকে যায়? আমার নতুন ছোটগল্প: "তুমি শুনতে পাওনি" । গল্পটি পড়ুন আর আপনার অনুভূতি কমেন্টে জানান। কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়। #তুমি_শুনতে_পাওনি #বাংলা_গল্প #সৈকত_প্রসাদ_রায় #ShortStory #BengaliLiterature লেখক: সৈকত প্রসাদ রায় বৃষ্টি তখন ধীরে ধীরে পড়ছে। জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ। যেন কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে আকাশও। রিমি বিছানার কোণায় চুপচাপ বসে আছে। পাশে একটা মগ, তাতে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কফি। ল্যাম্পের আলোয় তার মুখটা যেন কেমন নিস্তেজ, বিষণ্ণ। শব্দ নেই, কথা নেই, শুধু নিঃশ্বাসের একটানা চলাফেরা। সেদিনটা ঠিক এমনই একটা সন্ধে ছিল। তিন বছর আগে, এই ঘরেই... রিমি আর অর্ণব – নামদুটো তখন যেন একে অপরের সমার্থক। কলেজে পড়ার সময় থেকেই ওদের বন্ধুত্ব, পরে প্রেম, আর তারপর একসঙ্গে থাকা শুরু। কলকাতার এই ছোট্ট ফ্ল্যাটটাই তাদের একান্ত ...

মহাশক্তির আশীর্বাদ — সৈকত প্রসাদ রায়

  আমাদের এই চরাচরে মহাশক্তি নারী রূপেই বিরাজমান। তাঁর অসীম ধৈর্য, করুণা আর মাতৃস্নেহ আমাদের জীবনের সকল অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোর পথ দেখায়। মা সারদার পুণ্যস্মৃতি আর তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে জীবনের পথে এগিয়ে চলাই হলো পরম শান্তি। মহাশক্তির সেই বরাভয় আর আশীর্বাদকে শব্দে বাঁধার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমার এই কবিতা— 'মহাশক্তির আশীর্বাদ' । মহাশক্তির আশীর্বাদ — সৈকত প্রসাদ রায় নারীর মাঝেই মহাশক্তি দেখিয়েছো তুমি, সারদা মায়ের ছোঁয়ায় জয়রাম বাটি হল পবিত্র ভূমি।  ধৈর্য - দয়া - শান্তি - ক্ষমা মায়ের সাথেই রয়,  মা তোমার আশীর্বাদে জীবন জুড়ে পুণ্য স্রোত বয়। তোমার বাণী থাকে সযত্নে হৃদয়ের গভীরে,  তোমার নামে শান্তি নামে জীবন সমুদ্র তীরে।  আঁধার রাতে জোৎস্না তুমি ঘোচাও সকল আঁধার,  তোমার পদতলে সন্তানরা পায় শান্তির সমাহার। না চাইতেই তুমি সন্তানকে স্নেহ ভরা আশীর্বাদ দাও,  সন্তানের সকল পাপের বোঝা হাসিমুখে তুলে নাও।  পৃথিবীর সকল অশান্তি তোমার চরণেই ধ্বংস হয়,  তোমার কোলেই সকলে পায় শান্তির আশ্রয়। ত্যাগ - নিষ্ঠা - সত্যের পথে চলার তুমি যে পথপ্রদর্শক,  তোমার আশ...

স্মৃতির রেডিও — সৈকত প্রসাদ রায়

  স্মৃতি হলো এমন এক জাদুর বাক্স, যা কখনও কখনও গানের সুরে খুলে যায়। কিছু মানুষ হারিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু কিছু সুর তাদের আবারও জীবনের একই মোহনায় ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘ পনেরো বছরের ব্যবধান, একাকীত্ব আর একগুচ্ছ পুরোনো গানের প্রেক্ষাপটে এক অদ্ভুত পুনর্মিলনের গল্প— 'স্মৃতির রেডিও' । চৈতি একদিন হঠাৎ এসে বলল, “তুই জানিস, এখনো আমি ঘুমোতে যাওয়ার আগে ‘চাঁদনি রাত’ শুনি?” অর্ক হেসে বলেছিল, “তা শুনিস ভালো কথা, কিন্তু ওই গানে তোর ঘুম আসে কী করে? আমি শুনলেই পুরোনো জিনিসগুলো মনে পড়ে যায়, ঘুম তো পালায় বরং!” চৈতির চোখে ছিল হালকা অভিমান। “সেই যে কলেজের দিনগুলো… তোর বাইকের পেছনে বসে আমরা কোথায় কোথায় যে ঘুরতাম… ওই গানটা বাজলেই মনে হয়, আবার ফিরে যাচ্ছি…” অর্ক একটু চুপ করে যায়। এত বছর পরেও চৈতির চোখে অতটুকু জল জমলে, সে বুঝে যায়—সব কিছুই পুরোনো হয়, শুধু কিছু অনুভবের তারিখ মুছে যায় না। ২০১০ সালের দুর্গাপুজো। অর্ক তখন সেকেন্ড ইয়ার। কলেজ ক্যান্টিনে প্রথম চৈতির সঙ্গে দেখা। চোখে বড় ফ্রেমের চশমা, হাতে ছোট্ট একটা নোটবুক—অদ্ভুত এক মিশেল ছিল সেই মেয়েটার মধ্যে, পড়ুয়া আর দুষ্টুমির। “তুই রবীন্দ্রস...

আলোকিত প্রার্থনা

  আলোর উৎসব দীপাবলি মানেই কেবল প্রদীপের শিখা নয়, বরং তা হলো মনের ভেতর জমে থাকা যাবতীয় অন্ধকার আর কালিমা দূর করার এক পবিত্র মুহূর্ত। মা কালীর আশীর্বাদ আর লক্ষ্মীদেবীর আগমনে প্রতিটি ঘর যখন মঙ্গলময় হয়ে ওঠে, তখন আমাদের প্রার্থনা থাকে যেন বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বিরাজ করে। দীপাবলির এই স্নিগ্ধ ও জ্যোতির্ময় আবহে আমার অনুভূতির কিছু কথা সাজিয়েছি এই কবিতায়। পাঠকদের জন্য রইল আমার নতুন কবিতা— 'আলোকিত প্রার্থনা' । আলোকিত প্রার্থনা — সৈকত প্রসাদ রায় আঁধার কেটে আলো আসে দীপাবলির রাতে,  ঘরে ঘরে জ্বলে বাতি খুশির জোয়ারের সাথে। লক্ষ্মী আসেন ঘরে ভরিয়ে দেন মন,  আনন্দ আর শান্তি যেন করে আলিঙ্গন। দীপাবলির রাতে দূর হোক সকল কালিমা,  আনন্দে মনটা যায় ভরে যখন দেখি জগজ্জননীর অপূর্ব প্রতিমা। প্রদীপের শিখায় অন্ধকার মুছে যাক এ রাতে,  খুশিতে মন মেতে উঠুক আতসবাজির আলোতে। আলোর জ্যোতির মাঝে ভেসে যাক পবিত্র হৃদয় আর মন,  সকলকেই মা খুব ভালো রাখুন এই প্রার্থনা করি সারাক্ষণ।

হৃদয় মন্দির — ভক্তির আধ্যাত্মিকতায় অন্তরের খোঁজ

  আমরা ঈশ্বরকে খুঁজতে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়াই, কিন্তু সত্যি কি তিনি কেবল পাথরের প্রতিমায় থাকেন? আমার এই নতুন কবিতা "হৃদয় মন্দির"-এ আমি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি যে, যদি আমরা ভালোবেসে ব্যাকুল হয়ে ডাকতে পারি, তবে সেই জগজ্জননীকে আমাদের হৃদয়ের ভেতরেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। দীপাবলির এই পুণ্য লগ্নে প্রকাশিত আমার এই ক্ষুদ্র ভাবনা আজ আপনাদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করলাম। হৃদয় মন্দির – সৈকত প্রসাদ রায় (রানাঘাট, নদীয়া) ভক্তি ভরে ডাকোরে মন পাবে মায়ের স্নেহধারা,  নাহলে বৃথাই ঘুরবে মন্দিরে পাবে না মায়ের সাড়া।  মন্দিরে মা থাকেন আবার থাকেন ও না তিনি,  ব্যাকুল হয়ে ডাকলে সাড়া দেন জগজ্জননী। যেমন শিশু কাঁদে ব্যাকুল হয়ে যেতে চেয়ে মায়ের কোলে,  তেমনি ডাকো আকুল হয়ে বসে মায়ের পদতলে।  মা মা রবে হৃদয় ভরো নয়নে ঝরুক অশ্রুধারা,  তবেই পাবে মায়ের আশীষ মিলবে মায়ের সাড়া। নাহলে শুধু পাথর দেখবে প্রতিমার ওই রূপে,  মা তো থাকেন সকল প্রাণের মাঝে গভীর অনুভবে।  ডাকো তাকে ভালোবেসে তিনি আছেন সকল খানেই, মন্দিরে নয় মায়ের আসন পাতা তোমার হৃদয় মাঝেই।     ...

সেরার সেরা — শীতের আমেজ আর কম্বল রাজা

  শীতের সকাল মানেই লেপ-কম্বলের ওমে আর একটুখানি আলসেমি। ছোটবেলায় শীতের সেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যখন সূর্যি মামা লুকোচুরি খেলত, তখন আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল আমাদের প্রিয় কম্বল। শিশু-কিশোর অনলাইন সাহিত্যপত্র 'লেখাঘর' -এ (৮ই ডিসেম্বর ২০২৩) প্রকাশিত আমার এই ছোটদের কবিতা "সেরার সেরা" আজ আপনাদের জন্য শেয়ার করছি। আশা করি ছোট-বড় সবারই এই 'কম্বল রাজা'র কবিতা ভালো লাগবে। সেরার সেরা – সৈকত প্রসাদ রায় শীতে দেহ কাঁপে ঠকঠক করে,  সূর্যি মামা জানিনা লুকায় কোন গহুরে। ঠান্ডা হাওয়ায় দেহে কাঁপন ধরে,  একটু গরমের খোঁজে চোখ চারিদিকে ঘোরে। তখনই হাজির হন কম্বল রাজা,  আমরা সকলেই শীতে তার অনুগত প্রজা। রাজার শরীর নরম তুলোয় থাকে ভরা,  ঠান্ডা হাওয়ার বিরুদ্ধে রাজা খুব কড়া। রাজার কোলে শুয়ে আরাম করে ,  চোখ বুজলেই ঘুম আসে দুচোখ জুড়ে। তোমার জন্যই বিছানায় আমরা পাই মজা,  তাই সেরার সেরা আমাদের কম্বল রাজা।

মূল্যবোধ — এক নতুন ভুবন গড়ার প্রত্যয়

  সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রার ধরন বদলেছে, কিন্তু তার সাথে কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভেতরের মনুষ্যত্ব? আজকের এই স্বার্থ ও ক্ষমতার লড়াইয়ে আমরা কি সত্যিই মানুষের মতো মানুষ হতে পেরেছি? আমার নতুন কবিতা "মূল্যবোধ" হলো মানুষের বিবেককে জাগানো এবং ভেদাভেদ ভুলে একটি প্রেমপূর্ণ পৃথিবী গড়ার এক ক্ষুদ্র আহ্বান। মূল্যবোধ – সৈকত প্রসাদ রায় (নদীয়া) মানুষ আজ যেন শুধু রক্ত - মাংসে গড়া,  শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট শুধু গায়ের জোরে পরা। লোভের আগুনে পুড়িয়ে চলেছি সবুজ বন,  ধ্বংসের নেশায় ভুলেছি প্রকৃতি আমাদের প্রিয়জন। ক্ষমতার খেলায় মুখ ঢেকেছে মানবতা,  অসহায়ের কান্না জাগাতে পারে না মনে মমতা। ভেঙে দাও যত প্রাচীর যা গড়েছে বিভেদ রেখা,  মনীষীদের শিক্ষায় হোক জীবনের মূল্যবোধ শেখা। শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাও যা আলো দেবে অন্ধকারে, ত্যাগের মন্ত্র শেখাও যা আনবে শান্তি সংসারে। যদি হৃদয়ে নাই জাগে করুণার স্পর্শ,  তবে কিসের শ্রেষ্ঠত্ব কিসের এত হর্ষ ? এসো হাতে হাত রেখে গড়ি এক নতুন ভুবন,  যেখানে প্রেমই হবে আমাদের একমাত্র রতন।    ---

ভুবনমোহিনী — শাশ্বত প্রেমের এক কাব্যিক নিবেদন

 জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে যা হুট করেই মনের কোণে জায়গা করে নেয়। কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে হঠাৎ দেখা হওয়া সেই মুখ, যার হাসি আর স্নিগ্ধতা যেন পুরো পৃথিবীটাকে বদলে দেয়। আমার কলমে "ভুবনমোহিনী" কেবল একটি কবিতা নয়, বরং একরাশ মুগ্ধতা আর না বলা ভালোবাসার সংকলন। সেই অনুভূতিগুলোকেই ছন্দের মাধ্যমে সাজিয়ে আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ভুবনমোহিনী – সৈকত প্রসাদ রায় কত শত তারা জ্বলে ওই দূর আকাশে,  কত সুন্দর ফুলের গন্ধ ভাসে ওই বাতাসে।  তোমার ঐ রূপ সব কিছুকেই হার মানায়,  তোমার স্নিগ্ধ হাসি দেখে প্রাণটা জুড়ায়। পথের বাঁকে এক বিকেলে প্রথম দেখা হলো,  এক দেখাতেই মন যেন কোথায় হারিয়ে গেল।  তোমার ছোঁয়ায় পাষাণ হৃদয়ও গলে যায়,  তুমিই আমার জীবনে দেখা সেরা বিস্ময়। আকাশের চাঁদ ও যেন তোমার রূপের কাছে ম্লান,  তোমার মুখের হাসি দেখে মন করে আনচান।  তোমাকে দেখে মন শুধুই ভালোবাসতে চায়,  ভুবনমোহিনী তুমিই আমার ভালোবাসার আশ্রয়।                                           ...

প্রকৃত সম্বল কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়

  টাকা আমাদের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এই অর্থ কি সত্যিই সুখের মাপকাঠি? নাকি এটি কেবল বেঁচে থাকার এক মাধ্যম?   প্রকৃত সম্বল   সৈকত প্রসাদ রায় 💰 টাকা হাতে আসে যায় হয় না সে স্থায়ী,  🌍 টাকা উপার্জনের জন্যেই মানুষ হয় পরিযায়ী।  😊 মনের খুশি যায়না মাপা টাকার মাধ্যমে,  ✨ তবুও টাকাই প্রকৃত সম্বল নিত্য প্রয়োজনে।

সত্য বলার পুরস্কার: ছোটদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক ছোটগল্প

  শৈশবে আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় ভুলের বশে বা ভয়ে মিথ্যে বলে ফেলি। কিন্তু সেই মিথ্যের বোঝা বয়ে বেড়ানো যে কতটা কষ্টের, তা আমরা বড় হয়ে বুঝতে পারি। আজকের গল্পটি শান্তিপুর গ্রামের এক ছোট ছেলে অনিকের। একটি অঙ্কন প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে অনিকের জীবনে ঘটে যাওয়া এক বিশেষ ঘটনা তাকে শিখিয়েছিল যে, পুরস্কার জেতার চেয়েও সত্য কথা বলার সাহস অনেক বেশি মূল্যবান। চলুন পড়ে নেওয়া যাক এই চমৎকার গল্পটি। গল্পের নাম: সত্য বলার পুরস্কার   লেখক: সৈকত প্রসাদ রায় গল্পের মূল শিক্ষা (Moral of the Story): ভুল করা মানুষের স্বভাব, কিন্তু সেই ভুল স্বীকার করার জন্য সাহসের প্রয়োজন হয়। মিথ্যে বলে হয়তো সাময়িক জয় পাওয়া যায়, কিন্তু সত্য কথা বললে মনের শান্তি এবং মানুষের ভালোবাসা দুটোই পাওয়া যায়।

গ্রাম বাংলার মেলার স্মৃতি: এক চিলতে শৈশব ও "আনন্দমেলা"

  শীতের মিষ্টি রোদ আর মেঠো পথের ধুলো উড়িয়ে গ্রামের মেলায় যাওয়ার আনন্দই আলাদা। নাগরদোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ, মুড়কি-মোয়ার সুগন্ধ আর পুতুল নাচের সেই জাদুকরী জগত—সব মিলিয়ে মেলা মানেই আমাদের শৈশবের এক রঙিন অধ্যায়।  সৈকত প্রসাদ রায়ের কলমে উঠে এসেছে সেই হারানো দিনের মেলার আমেজ। শীতের দুপুরে শিশুদের মনের খুশিতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি হলো এই কবিতা— "আনন্দমেলা" । আসুন, কবিতার ছন্দে ফিরে যাই সেই চেনা গ্রামের মেলায়। আনন্দমেলা — সৈকত প্রসাদ রায় রানাঘাট, নদীয়া শীতের দুপুরে গ্রামের মেলা দেখে,  শিশুদের মন খুশির ছবি আঁকে। বাঁকা আল পথটি ধরে,  বাচ্চারা যেন যাচ্ছে উড়ে। নাগরদোলার ঘোরা দেখে তাই,  শিশুমনে আনন্দের সীমা নাই। মুড়কি মোয়া আর গুড়ের ভাঁড়,  কিনতে মন চাইছে সবার। পুতুল নাচ দেখার আনন্দে,  ছোট্ট মন মেতে ওঠে খুশির ছন্দে। ফেরার সময় মন হয় ফাঁকা,  আবার আসবো স্বপ্নে বিভোর থাকা। #শীতের দুপুরের মেলা,   #নাগরদোলা ও পুতুল নাচ,  #গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি,  #ছোটদের কবিতা,  #রানাঘাটের কবি।

সারদাঞ্জলি: আমার কলমে সংঘ জননী মা সারদার প্রতি সশ্রদ্ধ নিবেদন

 আমাদের এই অশান্ত পৃথিবীতে মা সারদা হলেন এক পরম শান্তির শীতল ছায়া। তাঁর সাদাসিধে জীবন আর অগাধ মাতৃস্নেহ আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে ভালোবাসা যায়। আমি যখনই মায়ের জীবন বা তাঁর আদর্শের কথা ভাবি, তখনই এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করি। সেই ভক্তি আর শ্রদ্ধা থেকেই কলম ধরেছিলাম। আমি সৈকত প্রসাদ রায় , নদীয়ার মাটি থেকেই মায়ের চরণে এই ক্ষুদ্র শব্দার্ঘ্য নিবেদন করার চেষ্টা করেছি। 'সারদাঞ্জলি' কেবল একটি কবিতা নয়, এটি আমার হৃদয়ের এক গভীর প্রার্থনা। আশা করি, মায়ের চরণে আমার এই অঞ্জলি আপনাদের হৃদয়েও একটু হলেও জায়গা করে নেবে। Sarada Devi Poem, Saikat Prasad Ray, Saradanjali, Bangla Devotional Poem, সারদা মা, কবিতা, নদীয়া, #SaradaMa #DevotionalPoem #BanglaKabita #সারদামা #কবিতা #ভক্তি

শূন্য থেকে পূর্ণ — এক টুকরো রোদ্দুর আর একরাশ ভালোবাসা

 " আজ আপনাদের সাথে আমার লেখা একটি বিশেষ কবিতা শেয়ার করছি যা সম্প্রতি 'অঙ্কুর পত্রিকা'য় প্রকাশিত হয়েছে। কবিতাটির নাম— 'শূন্য থেকে পূর্ণ' ।" শীতের অলস সকালে একাকিত্ব যখন ঘিরে ধরে, তখন ছোট ছোট হাতের ছোঁয়াই পারে জীবনকে নতুন করে অর্থবহ করে তুলতে। ‘অঙ্কুর পত্রিকা’র চতুর্বিংশতি সংখ্যায় প্রকাশিত আমার এই কবিতাটি এক দাদু ও তাঁর নাতির অমলিন সম্পর্কের গল্প বলে। কবিতার মূল ভাব: বয়সের ভারে মানুষ যখন স্মৃতির সরণিতে একা হয়ে পড়ে, তখন পরবর্তী প্রজন্মের নিষ্পাপ আবদারই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার রসদ। কুয়াশা মোড়া একাকী রবিবার কীভাবে একটি ছোট্ট কমলালেবু আর নাতির আদরে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, সেটাই এই কবিতার মূল সুর। #Poetry #BengaliLiterature  #GrandparentBond  #WinterMorning

বিশ্বজননী সারদা মা: শ্রীমা সারদা দেবীকে নিবেদিত একটি ভক্তিপূর্ণ কবিতা

 " অঙ্কুর পত্রিকার ২৫তম সংখ্যায় প্রকাশিত আমার নতুন কবিতা 'বিশ্বজননী' । নারী শক্তির আধার এবং পরম করুণাময়ী শ্রী শ্রী সারদা মা-এর উদ্দেশ্যে আমার এই বিনম্র নিবেদন। জয়রামবাটীর পুণ্যভূমি থেকে শুরু করে আজ প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে মা বিচরণ করছেন শান্তি ও ক্ষমার রূপ ধরে। বছরের শুরুতে মায়ের আশীর্বাদ চেয়ে লেখা এই কবিতাটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাবেন। মায়ের চরণে আমাদের সকলের প্রণাম। জয় মা সারদা!" Kobitar Naam: Bishwojanani (বিশ্বজননী) Lekhok: Saikat Prasad Roy (সৈকত প্রসাদ রায়) Potrika: Ankur Patrika (অঙ্কর পত্রিকা) Bishoy: Sarada Ma-er Bhaktigiti o Kobita. #SaradaMa  #SriMaSaradaDevi  #BhaktiPoetry  #BengaliPoem  #AnkurPatrika  #বিশ্বজননী  #সৈকত_প্রসাদ_রায়  #সারদামা  #বাংলা_কবিতা #ভক্তিগীতি

গণপতি

গণপতি সৈকত প্রসাদ রায় প্রথম পূজ্য দেব হে শিব-পার্বতী নন্দন, তোমার নামে দূর হয় সকল বিঘ্ন বন্ধন। ঋদ্ধি-সিদ্ধি কে পাশে নিয়ে তুমি করো অবস্থান, তোমার আশীর্বাদে শান্ত হয় দীন-দুঃখীর প্রাণ। বিশাল তোমার কর্ণ যুগল শোনো ভক্তের বাণী, সকলের জীবনে আনন্দ আনো হে অনাথের স্বামী। বক্রতুন্ড মহাকায় তুমি জ্যোতির্ময় আভা, তোমার উপস্থিতিতে বাড়ে এ ধরণীর শোভা। মোদের মনের যত কালিমা, তুমি করো সব শেষ, শান্তি আসুক ঘরে ঘরে, ঘুচে যাক সকল দ্বেষ। তোমার নামে শুরু করি যে কোনো নতুন কাজ, সফল করো সকল আশা ওগো গণরাজ। কপালে তোমার তিলক থাকে হাতে প্রিয় মোদক শোভা পায়, তোমার দয়ায় জীবনের সকল অন্ধকার কেটে যায়। সবারে রেখো তোমার চরণে ওগো বিপদভঞ্জন, তোমার আশীর্বাদে ধন্য হোক সকলের জীবন। ❤️🙏🌺 জয় শ্রী গণেশ 🌺🙏❤️