জীবন আসলে এক বহমান নদী, যেখানে প্রতিটি বাঁকে আমাদের কিছু পুরনো অভ্যাস আর প্রিয় মানুষকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই চারটে বছর—যাকে আমরা একসময় ফুরিয়ে যাবে না বলে ভাবতাম—আজ তার সমাবর্তন শেষে বিদায় জানানোর লগ্ন। রাতুল আর সায়নের সেই শেষ বিকেলের হোস্টেল রুমের নিঃশব্দ মুহূর্তগুলো কি কেবলই বিচ্ছেদ? নাকি এক পুরনো তালি দেওয়া ফুটবলের আবরণে ধরা থাকা একগুচ্ছ অমূল্য স্মৃতি? আমার লেখা অনুগল্প 'বিদায় বেলার ফুটবল' সম্প্রতি 'অনুগল্পের আসর' -এ পাঠ করা হয়েছে। রানাঘাট থেকে আকাশবাণী পর্যন্ত আমার এই ছোটগল্পের যাত্রার সেই বিশেষ মুহূর্তটি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি। নিচে দেওয়া ভিডিওতে শুনুন সেই আবেগের প্রতিধ্বনি। গল্পটি লিখতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি যে, প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনও দূরত্বে হার মেনে যায় না। এমনকি ধর্মের কোনো দেয়াল বা ভৌগোলিক সীমানাও সেই টানকে ম্লান করতে পারে না। আশা করি, আপনাদেরও এই গল্পটি নিজেদের কোনো প্রিয় বন্ধুর কথা মনে করিয়ে দেবে। #MiniStory, #BengaliLiterature, #Anugalpa, #Ranaghat, #FMGold , #Bondhutto #সৈকত প্রসাদ রায় অনুগল্প #বিদায় বেলার ফুটবল ছোটগল্প #রাত...
ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলাম ✍️ সৈকত প্রসাদ রায় রিমঝিম বৃষ্টির দুপুর। জানলার পাশে বসে চায়ের কাপ হাতে আনমনা হয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে অরিত্রা। একটানা বৃষ্টি যেন ওর ভেতরের সিক্ত হাহাকারকেই প্রতিধ্বনি করছে। কতদিন হলো এইভাবে বসে থাকে সে, ঠিক কতদিন জানে না। সময় এখানে থেমে গেছে—একটা বিশেষ মুহূর্তে, এক বিশেষ মানুষের কাছে। সেই মানুষটার নাম ছিল ঈশান। বিশ্বাস, ভালোবাসা, স্বপ্ন—সবকিছু এক এক করে সাজিয়েছিল ওদের দুজনের গল্পে। আর সেই গল্পেই কোথাও একটা মোচড় ছিল, যেটা অরিত্রা প্রথমে বুঝতে পারেনি। ঈশান ছিল রোমান্টিক, যত্নশীল, হাসিখুশি—তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত আত্মকেন্দ্রিকতা। অরিত্রা ধীরে ধীরে টের পেতে থাকে—এই সম্পর্কটা ওর একার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঈশানের ভালোবাসা ছিল শর্তসাপেক্ষ, সুবিধাভোগী। ওর চোখে অরিত্রা ছিল শুধু একজন 'ভালো শ্রোতা', একজন 'সহজ ভরসাস্থল'—কিন্তু একজন জীবনসঙ্গী নয়। প্রথম দুঃখ এসেছিল যেদিন ঈশান ওর জন্মদিনে এসে বলেছিল, "আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে, দোস্তদের সঙ্গে পার্টি আছে।" অরিত্রা কেকের পাশে বসে শুধু হাসি দিয়েছিল, গলার ভিতরে তখন আটকে ছিল কিছু শব্দ—ভ...