সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তুই আছিস বলে (একটি ছোটগল্প) | কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়

 

 "মাঝে মাঝে কাঁদতেও ভয় লাগে। যদি কেউ দেখে ফেলে, যদি কেউ দুর্বল বলে..."

আমাদের সবার জীবনেই এমন একজন মানুষের প্রয়োজন হয়, যার কাঁধে মাথা রাখলে পৃথিবীর সব লড়াই সহজ মনে হয়। ঈশান আর মিথিলার সেই আশ্রয়ের গল্প: "তুই আছিস বলে"

পড়ুন আমার ব্লগে: কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়।

#সৈকত_প্রসাদ_রায় #তুই_আছিস_বলে #বাংলা_গল্প #ভালোবাসা #আশ্রয় #BengaliLiterature


সৈকত প্রসাদ রায়


লেখক: সৈকত প্রসাদ রায়

বিকেলটা ভারী হয়ে আছে। আকাশে মেঘ নেই, তবু মনখারাপের হাওয়া বইছে। লেকের ধারে বসে আছে তারা—ঈশান আর মিথিলা।

মিথিলা আজ চুপচাপ। সাধারণত ওর মুখে ঝরনার মতো কথা, আর ঈশান শুধু শোনে। কিন্তু আজ মিথিলা শুধু তাকিয়ে আছে জলের ওপর ভেসে থাকা সূর্যরশ্মির প্রতিফলনে। ঈশান বুঝতে পারছে, মনের ভেতর অনেক কিছু জমে আছে, কিন্তু ও চেপে রাখছে।

ঈশান ধীরে ধীরে বলে, “বলবি না কিছু?”

মিথিলা একটু সময় নেয়। তারপর হঠাৎ ওর মাথাটা ঈশানের কাঁধে রেখে ফিসফিস করে বলে,


“তুই থাকিস না পাশে, সব কিছু একা একা নিতে ভালো লাগে না রে আর...”

ঈশান স্থির হয়ে যায়। এই এক অভ্যেস মিথিলার—যখন কষ্ট পায়, তখন মাথা রেখে দেয় ওর কাঁধে। যেন সেই কাঁধটাই ওর আশ্রয়।

“আমার বাবা মা কাল রাতে খুব ঝগড়া করল রে... মা সারারাত কাঁদল। আর আমি দেওয়ালের ও পারে চুপচাপ শুয়ে শুনছিলাম... কিছু করতেও পারলাম না। একটা অসহায় লাগছিল... ভয় লাগছিল জানিস?”

ঈশান ধীরে ধীরে মিথিলার চুলে হাত বুলিয়ে দেয়।

“তোর গলার আওয়াজটা তখন খুব দরকার ছিল... কিন্তু তোকে ফোন করতেও পারিনি।”

ঈশানের গলা ভারী হয়ে আসে। সে শুধু বলে, “আমি তো আছি, মিথিলা। তুই বললেই আমি এসে যেতাম।”

মিথিলা মুখ তোলে না। কাঁধেই মাথা রেখে বলে, “জানি। কিন্তু মাঝে মাঝে কাঁদতেও ভয় লাগে। যদি কেউ দেখে ফেলে, যদি কেউ দুর্বল বলে...”

ঈশান এবার মিথিলার মুখের দিকে তাকায়, তারপর হাত ধরে বলে, “আমি তোকে কোনোদিন দুর্বল ভাবি না রে। তুই যে কাঁদতে পারিস, সেটাই তোর শক্তি। আমার কাঁধটা তো তোর জন্যই রাখা... মাথা রাখ, একটু জিরিয়ে নে।”

সন্ধের আলো নেমে আসে ধীরে ধীরে। পাখিরা ডাকে ফিরে যাওয়ার ডাক। লেকের জল নীল থেকে গাঢ় হয়।

মিথিলা তখনো মাথা রেখেই আছে ঈশানের কাঁধে।


কেউ কিছু বলে না, শুধু নিঃশব্দে একে অপরের পাশে থাকে।

এটাই তো আসল ভালোবাসা—বড় কোনো নাটকীয়তা নয়, শুধু একটুখানি ভরসা, একটুখানি আশ্রয়...


তোর কাঁধে মাথা রেখে। 

                                                                     সমাপ্ত

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিদায় বেলার ফুটবল: এক টুকরো হাহাকার ও বন্ধুত্বের গল্প

 জীবন আসলে এক বহমান নদী, যেখানে প্রতিটি বাঁকে আমাদের কিছু পুরনো অভ্যাস আর প্রিয় মানুষকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই চারটে বছর—যাকে আমরা একসময় ফুরিয়ে যাবে না বলে ভাবতাম—আজ তার সমাবর্তন শেষে বিদায় জানানোর লগ্ন। রাতুল আর সায়নের সেই শেষ বিকেলের হোস্টেল রুমের নিঃশব্দ মুহূর্তগুলো কি কেবলই বিচ্ছেদ? নাকি এক পুরনো তালি দেওয়া ফুটবলের আবরণে ধরা থাকা একগুচ্ছ অমূল্য স্মৃতি? আমার লেখা অনুগল্প 'বিদায় বেলার ফুটবল' সম্প্রতি 'অনুগল্পের আসর' -এ পাঠ করা হয়েছে। রানাঘাট থেকে আকাশবাণী পর্যন্ত আমার এই ছোটগল্পের যাত্রার সেই বিশেষ মুহূর্তটি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি। নিচে দেওয়া ভিডিওতে শুনুন সেই আবেগের প্রতিধ্বনি। গল্পটি লিখতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি যে, প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনও দূরত্বে হার মেনে যায় না। এমনকি ধর্মের কোনো দেয়াল বা ভৌগোলিক সীমানাও সেই টানকে ম্লান করতে পারে না। আশা করি, আপনাদেরও এই গল্পটি নিজেদের কোনো প্রিয় বন্ধুর কথা মনে করিয়ে দেবে। #MiniStory, #BengaliLiterature, #Anugalpa, #Ranaghat, #FMGold  , #Bondhutto #সৈকত প্রসাদ রায় অনুগল্প #বিদায় বেলার ফুটবল ছোটগল্প #রাত...

বিশ্বজননী সারদা মা: শ্রীমা সারদা দেবীকে নিবেদিত একটি ভক্তিপূর্ণ কবিতা

 " অঙ্কুর পত্রিকার ২৫তম সংখ্যায় প্রকাশিত আমার নতুন কবিতা 'বিশ্বজননী' । নারী শক্তির আধার এবং পরম করুণাময়ী শ্রী শ্রী সারদা মা-এর উদ্দেশ্যে আমার এই বিনম্র নিবেদন। জয়রামবাটীর পুণ্যভূমি থেকে শুরু করে আজ প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে মা বিচরণ করছেন শান্তি ও ক্ষমার রূপ ধরে। বছরের শুরুতে মায়ের আশীর্বাদ চেয়ে লেখা এই কবিতাটি আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাবেন। মায়ের চরণে আমাদের সকলের প্রণাম। জয় মা সারদা!" Kobitar Naam: Bishwojanani (বিশ্বজননী) Lekhok: Saikat Prasad Roy (সৈকত প্রসাদ রায়) Potrika: Ankur Patrika (অঙ্কর পত্রিকা) Bishoy: Sarada Ma-er Bhaktigiti o Kobita. #SaradaMa  #SriMaSaradaDevi  #BhaktiPoetry  #BengaliPoem  #AnkurPatrika  #বিশ্বজননী  #সৈকত_প্রসাদ_রায়  #সারদামা  #বাংলা_কবিতা #ভক্তিগীতি

যেখানে শান্তি থাকে (জীবনমুখী ছোটগল্প) | কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়

   "সফলতা একধরনের বাহ্যিক প্রাপ্তি, কিন্তু শান্তি হল আত্মার গভীর উপলব্ধি।" বিশাল অট্টালিকা, দামী গাড়ি আর বিদেশের সফর—অর্জুন দত্তর জীবনে কমতি ছিল না কিছুর। তবুও ছাপ্পান্নো বছর বয়সে এসে কেন তাঁর মনে হলো, সাফল্যের ভিড়ে আসল শান্তিটা হারিয়ে গেছে? সাফল্যের চাকচিক্য ছেড়ে শেকড়ের টানে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য গল্প: "যেখানে শান্তি থাকে" । আমার ব্লগে গল্পটি প্রকাশিত হয়েছে। পড়ার আমন্ত্রণ রইল। কলমে: সৈকত প্রসাদ রায়। #যেখানে_শান্তি_থাকে #সৈকত_প্রসাদ_রায় #বাংলা_গল্প #জীবনবোধ #শান্তি #BengaliLiterature ✍️ সৈকত প্রসাদ রায় জীবনের সবচেয়ে উঁচু দালানটা শেষমেশ দাঁড়িয়ে থাকলেও, তার ছায়ায় পড়ে থাকা নীরবতা অনেক সময়ই কেউ দেখে না। অর্জুন দত্তর বয়স এখন ছাপ্পান্নো। শহরের সবচেয়ে নামী কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মালিক, টাকার হিসেব রাখতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট্যান্টরও কপালে ঘাম জমে যায়। বাড়ি, গাড়ি, বিদেশ সফর, পুরস্কার—সবই আছে। না থাকার কিছু নেই। অথচ কিছু একটা যেন নেই—এই কথাটাই বারবার মাথায় ঘোরে। আজ রবিবার। অর্জুন বসে আছেন নিজের বিশাল বাগানে। কফির কাপ হাতে, চোখ কিন্তু দূরের আকাশে। হঠাৎই মনে পড়ে গেল ২২...